বারাসত পুরসভার একজিকিউটিভ অফিসারের আকস্মিক পদত্যাগ, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
Political১৫ জুন, ২০২৬২ মিনিট পড়ুন

বারাসত পুরসভার একজিকিউটিভ অফিসারের আকস্মিক পদত্যাগ, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল পরিচালিত পুরসভাগুলির প্রশাসনিক রাশ নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে রাজ্য সরকারের নির্দেশে পুরসভাগুলির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজিকিউটিভ অফিসারদের ওপর। কিন্তু সেই নিয়মের মধ্যেই এই প্রথম রাজ্যের কোনো পুরসভার একজিকিউটিভ অফিসার পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘটনা সামনে এল। সোমবার তৃণমূল পরিচালিত বারাসত পুরসভার একজিকিউটিভ অফিসারের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শৈবাল কুমার মাইতি।

তিনি ইতিমধ্যেই পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন, যা পরবর্তীতে বারাসতের মহকুমা শাসকের (SDO) কাছে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। পদত্যাগের প্রকৃত কারণ ধোঁয়াশায় ঢাকা থাকলেও, চেয়ারম্যানের দাবি— সরকারি শিবিরের কাজে ত্রুটি নিয়ে জেলা শাসকের (DM) বকাঝকার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শৈবালবাবু।

কেন এই পদত্যাগ? উঠে আসছে দু'টি ভিন্ন কারণ

শৈবাল কুমার মাইতির এই আকস্মিক পদত্যাগের পিছনে মূলত দু'টি ভিন্ন তত্ত্ব উঠে আসছে:

জেলা শাসকের ক্ষোভ (পুরসভার দাবি): সোমবার থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে সরকারের 'জনকল্যাণ শিবির'। বারাসতের চারটি কেন্দ্রে (রজনীগন্ধা, বারাসত স্টেডিয়াম, মনোরঞ্জন স্মৃতি সংঘ এবং ন'পাড়া কিশোর স্পোর্টিং ক্লাব) এই শিবির চলছে। চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়ের দাবি, এই শিবিরের ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি থাকায় জেলা শাসক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই অভিমানেই মেয়াদ শেষের দেড় বছর আগেই পদত্যাগ করেন একজিকিউটিভ অফিসার।

বিজেপি বিধায়কের আরটিআই (RTI) ও দুর্নীতির তদন্ত: রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর দুর্নীতি, তোলাবাজি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল গ্রেফতার হয়েছেন। বারাসতেও একজন গ্রেফতার হওয়ায় এবং জনরোষের (ডিম থেরাপি) ভয়ে বহু কাউন্সিলর পুরসভায় আসছেন না। এই পরিস্থিতিতে বারাসতের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান ও আর্থিক কারচুপি নিয়ে শৈবালবাবুর সাথে দু'বার বৈঠক করেন। সঠিক তথ্য না পাওয়ায় সম্প্রতি তিনি আরটিআই (RTI) ফাইল করেছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আইনি ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েই এই পদত্যাগ।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি

একজিকিউটিভ অফিসারের এই নাটকীয় পদত্যাগের পর বারাসত পুরসভা এবং জেলা প্রশাসনের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই মুহূর্তে পুরসভার দৈনন্দিন কাজ ও জনকল্যাণ শিবির পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়েছে জেলা প্রশাসন, বিশেষত বারাসতের মহকুমা শাসকের ওপর।

"উনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এবার প্রশাসন বুঝবে, আমাদের কিছু করার নেই। জনকল্যাণ শিবিরের কিছু ত্রুটি নিয়ে জেলা শাসক রাগারাগি করেছিলেন, সেই কারণেই ওনার এই সিদ্ধান্ত। আমি চিঠি এসডিও-র কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।"

— সুনীল মুখোপাধ্যায়, চেয়ারম্যান, বারাসত পুরসভা

"আমি এখনও পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি। চিঠি পাওয়ার পরেই এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।"

— ভুবনা প্রণীত পাপ্পুলা, মহকুমা শাসক (SDO), বারাসত

তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা বনাম বিজেপি বিধায়কের এই সংঘাতের আবহে একজিকিউটিভ অফিসারের পদত্যাগ বারাসতের নাগরিক পরিষেবাকে কতটা ব্যাহত করবে, এখন সেটাই দেখার।

#Barasat Municipality#TMC#BJP#West Bengal

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX