
শত্রু শিবিরের ঘুম কাড়তে প্রস্তুত ভারতের নিজস্ব আর্টিলারী ‘ধনুষ’
ধনুষ, কাড়িগিল যুদ্ধের ‘বোফর্স’ কামানের আধুনিক দেশীয় সংস্করণ, এখন প্রশিক্ষণ মাঠে প্রস্তুত। উচ্চ রেঞ্জ ও স্বদেশি উপকরণে গঠিত এই আর্টিলারী শত্রুর ঘুম কাড়তে সক্ষম হবে বলে সেনা কর্মকর্তারা আশাবাদী।
নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্র‑ইন্ডিয়ান সেনা গঠনকারী ‘ধনুষ’ আর্টিলারী আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর গর্বের নতুন রূপ পেয়েছে। কাড়িগিল যুদ্ধের ঐতিহাসিক ‘বোফর্স’ কামানকে আধুনিক প্রযুক্তি ও দেশীয় উপকরণে পুনর্গঠন করা এই দীর্ঘ দূরত্বের শুটিং অস্ত্র, এখন প্রশিক্ষণ মাঠে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেনা কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ধনুষের রেঞ্জ ৪০ কিলোমিটারের বেশি, আর একবারের শুটে ১৫০ কেজি পর্যন্ত শেল দূরে পাঠাতে সক্ষম।
ধনুষের গঠন প্রক্রিয়ায় ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রি নিজস্বভাবে উচ্চমানের স্টিল, রিকনস্ট্রাকশন কিট ও ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছে। ফলে, বিদেশি অংশের ওপর নির্ভরতা কমে গেছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচও হ্রাস পেয়েছে। সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্বদেশি অস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধের গতি দ্রুত করে তুলবে এবং শত্রুর ঘুমে ফাটল সৃষ্টি করবে।
কর্তৃপক্ষের মতে, ধনুষের উৎপাদন ক্ষমতা প্রতি বছর প্রায় ৪০০ ইউনিট, যা রিজার্ভে যুক্ত করা হলে ভারতের আর্টিলারী ব্যালান্সে দৃঢ়তা আসবে। পাশাপাশি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় গবেষণা ও উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে ধনুষকে অন্যান্য ফর্মেশনেও যুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
অবশেষে, ধনুষের সফল পরীক্ষা ও পর্যালোচনা দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন ভারত নিজস্ব আর্টিলারী পণ্য রপ্তানি করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির দুটোই মজবুত করবে। শত্রু শিবিরের ঘুম কাড়তে প্রস্তুত এই আধুনিক ‘ধনুষ’, ভারতীয় সেনাবাহিনীর নয়া গর্বের প্রতীক হিসেবে রেকর্ডে নামবে।



