পুরনো দিঘায় আর দেখা যাবে না ‘বিশ্ব বাংলা’ গ্লোব! ‘উন্নয়নের প্রতীক’ সরাল নতুন সরকার
রাজনীতি১২ জুন, ২০২৬১ মিনিট পড়ুন

পুরনো দিঘায় আর দেখা যাবে না ‘বিশ্ব বাংলা’ গ্লোব! ‘উন্নয়নের প্রতীক’ সরাল নতুন সরকার

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

দিঘার ‘বিশ্ব বাংলা’ গ্লোব মুছে ফেলা নতুন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে, তবে শহরের বাসিন্দা ও পর্যটকরা ঐতিহাসিক চিহ্নের সংরক্ষণে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

দিঘা—বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রে জনপ্রিয় সমুদ্রতীরের নাম, আজ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন শাসক দল একের পর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবশিষ্ট স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলছে, যেখানে ‘বিশ্ব বাংলা’ গ্লোবের মতো বিশাল কাঠামোও অন্তর্ভুক্ত। কয়েক দিন আগে দিঘার প্রধান সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গ্লোবটি ভেঙে ফেলতে শুরু করা হয়, যা আগে বাংলা সংস্কৃতি ও বিশ্ববাণিজ্যের সেতু হিসেবে প্রচারিত হতো।

প্রশাসন গঠনকারী দল দাবি করে যে, এই পদক্ষেপগুলো ‘উন্নয়নের প্রতীক’ হিসেবে শহরের নতুন দিগন্ত গড়ার অংশ। তারা জোর দিয়ে বলে যে, পুনর্নির্মাণে অতীতের রাজনৈতিক চিহ্নগুলো বাদ দিয়ে আধুনিক অবকাঠামো, রিসোর্ট এবং পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তবে কিছু স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটক এই পরিবর্তনকে অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করে, তাদের মতে গ্লোবের মতো প্রতীকগুলোই দিঘার পর্যটন আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের পাশাপাশি দিঘার বাসিন্দারা নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আশাবাদী। তারা আশা করে যে, ভবিষ্যতে সাগরের ধারে সুশৃঙ্খল পাবলিক সুবিধা, সাইক্লিং ট্র্যাকে এবং পরিবেশ বান্ধব হোটেল গড়ে উঠবে। যদিও প্রাক্তন শাসনের চিহ্ন মুছে ফেলা ব্যাকরণিকভাবে চ্যালেঞ্জিং, তবে শহরের সংস্কৃতিগত পরিচয় রক্ষা করার জন্য স্থানীয় গ্রুপগুলোও সক্রিয়ভাবে মতামত প্রকাশ করছে।

সর্বোপরি, দিঘা এখন একটি রূপান্তরের পর্যায়ে রয়েছে। নতুন সরকার যদি সত্যিই ‘উন্নয়নের প্রতীক’ হয়ে থাকে, তবে ঐতিহাসিক চিহ্নের সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের মধ্যে সঠিক সামঞ্জস্য গড়ে তোলা জরুরি। নইলে, দিঘার পর্যটন গৌরবের সঙ্গে রাজনৈতিক তিক্ততা মিশে পাঠকের কাছে একধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX