লোকসভাতেও কি ভাঙন? স্পিকারের টেবিলে ১৯ সাংসদের সই করা চিঠি, রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘২০ নম্বর’ সদস্য
রাজনীতি১২ জুন, ২০২৬২ মিনিট পড়ুন

লোকসভাতেও কি ভাঙন? স্পিকারের টেবিলে ১৯ সাংসদের সই করা চিঠি, রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘২০ নম্বর’ সদস্য

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX

লোকসভার স্পিকারের টেবিলে ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের সই করা চিঠি পৌঁছনোর খবর ঘিরে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। রহস্যময় ২০ নম্বর সাংসদের পরিচয় নিয়ে জল্পনার মাঝে দলবদলের প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

বিধানসভার পর এবার খাস লোকসভাতেই কি বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে কি বড়সড় বিদ্রোহ শুরু হয়ে গিয়েছে? সম্প্রতি লোকসভার স্পিকারের টেবিলে ১৯ জন সাংসদের সই করা একটি চিঠি পৌঁছেছে বলে খবর ছড়িয়েছে, যা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই অভিযোগ সত্যি হয়, তবে তা তৃণমূলের জন্য এক চরম অস্তিত্ব সংকটের ইঙ্গিত।

সূত্রের খবর, দলবদলের এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনে চালানো হচ্ছে। ১৯ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই তাঁদের সই দিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, কিন্তু রহস্য দানা বেঁধেছে ২০ নম্বর সদস্যকে ঘিরে। দলের ভেতরেই গুঞ্জন, আরও একজন সাংসদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছেন, যা তৃণমূলের জন্য হবে এক বড় ধাক্কা। লোকসভার এই সম্ভাব্য ভাঙন কেবল সংখ্যাতত্ত্বের লড়াই নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ অন্দরের ফাটলকেই প্রকাশ্যে এনে দিল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিল্লির অন্দরে এই তৎপরতা এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের সংঘাত তুঙ্গে। অনেক সাংসদই সম্ভবত দলের বর্তমান রণকৌশল বা নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে দিল্লির রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে একদল সাংসদ ভিন্ন পথে হাঁটার কথা ভাবছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ওই ১৯ জন এবং রহস্যময় ২০ নম্বর সাংসদ আসলে কারা? তাঁদের নাম প্রকাশ্যে এলে রাজ্য রাজনীতিতে যে ভূমিকম্প হবে, তা নিশ্চিত। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার। দলের অন্দরে কি শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া চলবে, নাকি বড়সড় দলবদলই হবে শেষ কথা— সেই উত্তরের অপেক্ষায় গোটা দেশ।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক কঠিন পরীক্ষার সময়। একদিকে যখন রাজ্য সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে লড়াই করছে, ঠিক সেই সময়ে সাংসদদের এই সম্ভাব্য বিদ্রোহ দলের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। এখন দেখার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কৌশলী নেতৃত্বে এই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের ফের দলে ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না, নাকি লোকসভার সমীকরণ বদলে যাবে সম্পূর্ণভাবে।

এই খবরটি শেয়ার করুন

শেয়ার করুন:WhatsAppFacebookTelegramX